গত ১৩ ডিসেম্বর শনিবার ফরিদপুর শহরের রাসেল শিশু পার্ক সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসমাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন পুরুষ খদ্দেরসহ দুই জোড়া কপলকে আটক করে ফরিদপুর ডিবি পুলিশ।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রবাসী ছিলেন। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার সালথা থানাধীন এলাকায়। জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের পর ১২ ডিসেম্বর তার এক আত্মীয়ের পরিচিত এক নারীর সঙ্গে উক্ত হোটেলে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। অভিযানের সময় তার কাছে বেশ কিছু বৈদেশিক মুদ্রা (ডলার) পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রবাসীর নিকট থেকে আনুমানিক ৯০০ মার্কিন ডলার (৫–১০ ডলার কমবেশি হতে পারে) গ্রহণ করে তাকে ও তার সঙ্গীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, হোটেলে অবস্থানরত অবৈধ পাঁচ নারী ও একজন খদ্দেরকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।
হোটেল মালিক মিলনের বরাত দিয়ে জানা যায়, উক্ত ৯০০ ডলারের আনুমানিক বাংলাদেশি মূল্য প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, যেহেতু অভিযুক্ত কপলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে উক্ত ডলার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করা হয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে আরও জানা যায়, ফরিদপুরের নবাগত ডিবি ওসি মিজান অতীতে বিভিন্ন থানায় কর্মরত ছিলেন। তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা চলছে। ফরিদপুরে যোগদানের পরপরই উক্ত হোটেলে অভিযান এবং ডলার লেনদেনের অভিযোগ শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, পুলিশ সুপার, ফরিদপুর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি- 










